
Walt Whitman [1819-1892]
(ওয়াল্ট হুইটম্যান)
- American National Poet
ওয়াল্ট হুইটম্যান-কে বলা হয় গণতন্ত্রের কবি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের লং আইল্যান্ডের একটি গরিব পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। দারিদ্র্যতা শৈশবে তিনি হারে হারে টের পেয়েছিলেন। তাকে বলা হয় গণতন্ত্রের কবি। মানুষের অধিকারের ব্যাপারে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সচেতন। তার সম্বন্ধে বলা হয়-If he had any love, it was America-the America of his dreams. নিম্নে তার সাহিত্যকর্মগুলো উল্লেখ করা হলো-
- Franklin Evans (1842)
- Leaves of Grass (1855)
- Drum-Taps (1865)
- Memoranda During the War
- Specimen Days
- Democratic Vistas (1871)
- Leaves of Grass তার সবচাইতে বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ। তার উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলো হলো-
- O Captain! My Captain! এই কবিতাটি তিনি আব্রাহাম লিংকনের মৃত্যুতে প্রকাশ করেছিলেন। যেহেতু তিনি গণতন্ত্রের কবি ছিলেন তাই স্বভাবতই আব্রাহাম লিংকনের একজন অন্ধ ভক্ত ছিলেন। প্রিয় প্রেসিডেন্টর মৃত্যুতে তিনি শোকাহত ছিলেন গভীরভাবে।
- Crossing Brooklyn Ferry এই কবিতাতে তিনি অতীত, বর্তমান, এবং ভবিষ্যৎকে চমৎকারভাবে একসূত্রে আবদ্ধ করেছিলেন।
ও ক্যাপটিন, মাই ক্যাপটিন (O Captain, My Captain) সারাংশ :
আমেরিকার ত্রাতা, দাসপ্রথার বিলোপ কর্তা, গণতন্ত্রের সংজ্ঞা দাতা-আব্রাহাম লিঙ্কন আততায়ীর হাতে নিহত হলে, কবি হুইটম্যান শোকে বিহ্বল হয়ে, লিঙ্কনের স্মরণে কবিতাটি রচনা করেন। আমেরিকার ইতিহাসে আব্রাহাম লিংকনের যে বিশাল ভূমিকা, কবি তাকে সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করেন। আবেগাপ্লুত হয়ে তাকে শুধু নেতা নয়, পিতা সম্বোধন করেন। কঠিন সংগ্রাম শেষে বিজয় ছিনিয়ে আনবার পর নেতার মহাপ্রয়ান কবিকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। কবিতাটির ছত্রে ছত্রে সে গভীর দুঃখেরই প্রকাশ।
হোয়েন লাইলাকস্ লাস্ট আই মাই ডোরইআর্ড ব্লুমেড্ When Lilacs Last at My Dooryard Bloomed সারাংশ:
প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কনের অপ্রার্থীত অকাল প্রয়াণে রচিত শোক গাঁথার কবি হুইটম্যান নিজ শোক বিহ্বলতা ছড়িয়ে দিয়েছেন; প্রকৃতিতে, তারায়, ফুলে, পাখির গানে আর প্রান্তরে। জীবনের চলমানতাকে তিনি অস্বীকার করেননি। দেশব্যাপী, জনগণের প্রিয় নেতা, আধুনিক আমেরিকার নির্মাতা, দাস প্রথা বিলোপের প্রতিষ্ঠাতা-আব্রাহাম লিংকনের মরদেহ বাহিত হবার সময়ও কবি জীবন ও মৃত্যুর শোভাযাত্রা দেখেছেন একই সাথে। মৃত্যু জীবনের গতিকে থমকে দিলেও থামিয়ে দেয় না সেকথা মেনে নিয়েছেন কবি সর্বাত্মকরণে। তাঁর ব্যক্তিগত দুঃখ বোধ সুগভীর হলেও কবি বাস্তবকে অস্বীকার করেননি। বারবারই বলেছেন জীবনের শত ব্যস্ততা, শত কোলাহলের মাঝেও সচেতন আমেরিকাবাসী কোনোদিনই তাদের নেতাকে ভুলে যাবে না। শ্রদ্ধায়, ভালোবাসায় তাদের মুক্তির দূত আব্রাহাম লিংকনকে আমেরিকাবাসী চিরকাল মনে রাখবে কবির মতো করে, কবি সে আশা পোষণ করেন দৃঢ় মনে।
ক্রসিং ব্রুকলিং ফেরি সারাংশ:
Walt Whitman তাঁর 'Crossing Brooklyn Ferry'- কবিতাটিতে পানি ও স্থলভাগের প্রতীকী উপস্থাপনা দ্বারা এই বিশ্বজগতের দ্বিতত্ত্ববাদ (Dualism) ফুটিয়ে তুলেছেন। এই কবিতাটির মূল চিত্রকল্প হচ্ছে ফেরি যা স্থান ও সময়ের সার্বজনীন গতির প্রতীক এবং যা অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের আরোহণকারী সকল নারী-পুরুষের আত্মিক একতার প্রতীক।
কবিতার প্রথমেই কবি জোয়ার, মেঘ, সূর্য ইত্যাদি প্রাকৃতিক উপাদানগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন এবং তাদেরকে কবি মুখোমুখি প্রত্যক্ষ করছেন। সাধারণ পোশাকের নারী-পুরুষের ভিড় এবং নদী পারাপারের দৃশ্যগুলোর সাথে প্রাকৃতিক উপাদানগুলো মিশে কবির মনে এক আধ্যাত্মিক ভাবের সৃষ্টি হয়েছে।
দ্বিতীয় অংশে কবি এই বিশ্বজগৎকে সুবিন্যস্ত, সুগঠিত ও সুসংযুক্ত মহাপরিকল্পনা বলে উল্লেখ করেছেন যেখানে সবাই বিচ্ছিন্ন হয়েও সংযুক্ত। কবি নিজেকে জন্ম-জীবন-মৃত্যুর চিরন্তন প্রক্রিয়া ও বিপুল জনগোষ্ঠীর অংশ মনে করেন। হাজার বছর পরেও যারা নদীটি পার হবে তাদের সাথে নিজেকে অভিন্ন ভাবতে চান এবং ব্রুকলিন ফেরির মাধ্যমেই এই সম্পর্ক স্থাপন করতে চান।
তৃতীয় অংশে কবি সময়, স্থান ও দূরত্বকে অতিক্রম করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিকট পৌঁছেছেন। নদীর উচ্ছল প্রবাহ, স্টিমারের মোটা নল, পূর্ণ বয়স্ক গাংচিল, ফেনিল জলরাশি, অর্ধবৃত্তাকার তরঙ্গমালা, ছোট বড় জাহাজ, চিমনির আগুন, নাবিকদের ব্যস্ততা, জাহাজের সাদা পাল ও নিশান, বজরা এই সবকিছু কবি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বলতে চান। এখানে প্রবল আকাঙ্ক্ষার মাধ্যমে নিজেকে ভবিষ্যতকে প্রজন্মের কাছে উন্মোচিত করেছেন।
চতুর্থ ও পঞ্চম অংশে শহর, নদী ও মানুষের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসার কথা বলেছেন। এখানে মন ও বস্তু দুটি ব্যাপারে কবির দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন হয়েছে যদি কবি ব্রুকলিনকে ভালোবেসেই থাকেন তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সাথে তার পার্থক্য কোথায়? ম্যানহাটানের রাস্তায় চলাচলের সময় অপ্রত্যাশিতভাবে এই প্রশ্নটি কবির মনে উদয় হয়। কারণ কবির মনোদৈহিক অস্তিত্বে পরিণত হয়েছে ব্রুকলিন ফেরিটি। যা সমস্ত মানবকুলের সাথে সঙ্গতি স্থাপন করেছে।
ষষ্ঠ অংশে কবি মানজীবনকে ভালোমন্দের সেই পুরাতন বন্ধন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কারণ কবি যেমন মন্দের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন তেমনি ভালোর দ্বারাও প্রভাবিত হয়েছেন। তাই কবি বলেছেন, কেউ যেন মনে না করে যে সে একাই দোষী বা সে একাই শুধু মন্দ কাজ করে। সবারই মানতে হবে জীবন হচ্ছে বিশুদ্ধ ও দূষিত উপাদানের সমষ্টি।
সপ্তম অংশে কবি তাঁর পাঠককে আরো আপন হতে বলেছেন। কবি তার বর্তমান পাঠকের কথা যেমন চিন্তা করেন তেমনি ভবিষ্যৎ পাঠকের কথাও চিন্তা করেন। তাই কবি তাঁর ভবিষ্যৎ পাঠকের উদ্দেশ্যে বলেছেন, যখনই তোমরা কবিতাটি পাঠ করবে তখনই আমি অদৃশ্য উপায়ে (চিন্তন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে) তোমাদের সামনে হাজির হব। অর্থাৎ কবি চিন্তন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ পাঠকের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করবেন।
অষ্টম অংশে কবি নদীর উপর সূর্যাস্ত, গাংচিল, গোধূলি ও ম্যানহাটানের সৌন্দর্য বর্ণনা করেছেন এবং অনুধাবন করেছেন যে আগামী প্রজন্মের মানুষের সাথে তাঁর সম্পর্ক সূক্ষ্ম কিন্তু স্থায়ী। আর সম্পর্কটি হলো আধ্যাত্মিক যা কোনো সাধারণ ভাষায় বোঝানো যায় না কিংবা ধর্মোপদেশ দিয়ে শেখানো যায় না।
নবম অংশে কবি নদীকে সনির্বন্ধ অনুরোধ করেছেন তাঁকে জোয়ারের সাথে ভাসিয়ে নেয়ার জন্য, মেঘকে অনুরোধ করেছেন তাঁকে ভিজিয়ে দেওয়ার জন্য এবং ম্যানহাটানকে বলেছেন দাঁড়িয়ে থাকতে। কবি সবকিছুকে যথাযথভাবে তাদের কাজ করতে বলেছেন। কারণ তারা সুবিন্যস্ত ও সুসংযুক্ত কর্মপরিকল্পনার অংশ। ব্রুকলিন ফেরিও তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন নয় বা হতে পারবে না কারণ সাধারণ মানুষ ব্রুকলিন ফেরিকে ভালোবেসে হৃদয়ে স্থায়ীভাবে গেঁথে রেখেছে। ছোটো বড়ো যে বস্তু দিয়েই ব্রুকলিন নিজেকে সজ্জিত করুন না কেন, তা অবিনশ্বর ও চিরন্তন। ভাষার চমৎকারিত্ব দিয়ে কবি কবিতাটিতে সম্মোহন সৃষ্টি করেছেন। কবির বর্ণনায় মানুষের দৈহিক অস্তিত্ব ব্রুকলিন ফেরির মতোই যা নশ্বর পৃথিবী থেকে অবিনশ্বরের দিকে ছুটে চলেছে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
Read more